‘সমাজ’ ও ঘুষ-দুর্নীতির বাস্তবতা

এসব যুক্তি মেনে নিলে কথা দাঁড়ায় এই যে, ঘুষ-দুর্নীতি সাথে নিয়েই মানব সমাজকে অনন্তকাল চলতে হবে। সমস্যাটি ঘুষ-দুর্নীতি নয়, সমস্যা হলো তার পরিমাণ। অর্থাত্ ঘুষ-দুর্নীতি চিরকালই আমাদের মানব সমাজের সঙ্গী হয়ে থাকবে। প্রশ্নটি হলো কেবলমাত্র তাকে ‘অসহনীয়’ মাত্রায় পৌঁছাতে না দেয়ার। ঘুষ-দুর্নীতিকে ‘বিধিলিপি’ ও ‘সমাজের একটি অন্তর্নিহিত বৈশিষ্ট্য’ বলে স্বীকার করা যায় কি?
কোনক্রমেই তা করা যায় না! এক্ষেত্রে প্রথমেই ‘সমাজ’ আসলে কি ও কেন—সেই প্রশ্নের দিকে দৃষ্টি দেয়া প্রয়োজন। মানুষ সমাজবদ্ধ জীব। এবং এটি কেবল এখনকার বা প্রাচীনকালের জন্য সত্য, তা নয়। মানব প্রজাতির উদ্ভবের ইতিহাসের লগ্ন থেকেই, মানুষের অস্তিত্বের সাথে তার সামাজিক সত্তার আবশ্যিক সম্পৃক্ততা একটি অলঙ্ঘনীয় সত্য। ‘সমাজবদ্ধ’ হয়ে ওঠার সাথে মানব প্রজাতির উদ্ভব ও বিকাশ এবং মানব সভ্যতার অগ্রগতি ওতপ্রোতভাবে ও শর্তবদ্ধভাবে সম্পর্কিত।
মানুষের স্বার্থ রক্ষার প্রয়োজনেই ‘সমাজ’ রচিত ও স্থাপিত হয়েছে। ‘মানব সমাজ’ মানেই হলো সম-স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য মানুষের যৌথতা। যৌথ স্বার্থ ও যৌথতার বোধ হলো ‘সমাজ’ গঠনের মৌলিক ও প্রাথমিক ভিত্তি। সব মানুষের একটি ব্যক্তিগত সত্তা থাকে, যেমন অপরিহার্যভাবে থাকে তার একটি সামাজিক সত্তাও। একজন মানুষ কেবলমাত্র ব্যক্তিসত্তাসম্পন্ন থাকলে তার সমাজবদ্ধ হওয়ার কোনই আবশ্যিকতা থাকতো না। যৌথতা ভিত্তিক সামাজিক সত্তা থাকার কারণেই ‘নিজের অস্তিত্বের প্রয়োজনে’ মানুষ সমাজবদ্ধ থাকতে বাধ্য হয়েছে।
মানুষের যৌথ সাধারণ স্বার্থ রক্ষার জন্যই ‘সমাজ’। ‘সমাজ’ সম্পর্কে ধারণাগত উপলব্ধি হলো এমনই। যৌথ স্বার্থরক্ষার অন্তর্নিহিত ও আবশ্যিক তাগিদই মানুষকে সমাজবদ্ধ করার প্রণোদনা যোগায়। ‘সমাজ’ মানুষের যৌথ স্বার্থকে সংরক্ষণ ও লালন করতে সামর্থ্যবান। সে কারণেই ‘সমাজ’ টিকে থাকার ভিত্তি পায়। মানুষের স্বার্থ ক্ষুণ্ন করাই যদি হতো ‘সমাজের’ উদ্দেশ্য সম্পর্কে ধারণাগত উপলব্ধি, তাহলে মানুষ কখনোই সমাজবদ্ধ হতো না। তেমনটি হলে ‘সমাজ’ বলে কোনো কিছুর অস্তিত্বই থাকতো না। এসব হলো ‘সমাজ’ সম্পর্কে ধারণাগত উপলব্ধির কথা। কিন্তু ‘সমাজ’ মোটেও কেবল ধারণাগত একটি বিষয় নয়। ‘সমাজের’ রয়েছে বাস্তব অস্তিত্ব। ‘সমাজ’ সম্পর্কে ধারণাগত উপলব্ধি ও তার বাস্তব রূপ-চেহারা-চরিত্রের মধ্যে বৈপরীত্যের উপাদান সৃষ্টি হওয়াটা সম্ভব। মানুষের ‘সামাজিক সত্তা ও স্বার্থ’ এবং তার ‘ব্যক্তিসত্তা ও স্বার্থের’ সম্ভাব্য দ্বন্দ্বের কারণেই এ-ধরনের বৈপরীত্যের উপাদান ‘সমাজে’ অস্তিত্বমান হয়ে উঠতে পারে। জন্মলগ্ন থেকে ‘মানব সমাজ’ একটি অখণ্ড ও অবারিতভাবে বহমান বাস্তবতা হওয়া সত্ত্বেও তার রূপ ও বৈশিষ্ট্যে পর্যায়ক্রমিক নানা রূপান্তর ঘটেছে। আদিম সাম্যবাদী সমাজ থেকে পর্যায়ক্রমে দাস সমাজ, সামন্তবাদী সমাজ, পুঁজিবাদী সমাজ ইত্যাদি হিসাবে তা রূপ লাভ করেছে। দাস সমাজে মানুষের মধ্যে শ্রেণী বিভাজনের যে সূত্রপাত, আজ অবধি তা অব্যাহত আছে। সমাজে শ্রেণী বিভাজন ও উত্পাদনের উপকরণসমূহের ওপর ব্যক্তিগত মালিকানার ব্যবস্থা প্রচলিত হওয়ার কারণে মানুষের ‘সামাজিক সত্তা-স্বার্থের’ সাথে তার ‘ব্যক্তিসত্তা-স্বার্থের’ সামঞ্জস্য ও সংগতিসম্পন্নতা বিনষ্ট হয়ে এই দু’য়ের মধ্যে দ্বন্দ্ব ও বৈপরীত্যের উপাদান জন্ম নিতে সক্ষম হয়েছে।
সমাজে আদিকাল থেকে শ্রেণী বিভাজন ও উত্পাদনের উপকরণের ওপর ব্যক্তিগত মালিকানা ব্যবস্থা ‘সমাজের’ কোনো অন্তর্নিহিত বৈশিষ্ট্য নয়। মানব সমাজের ঐতিহাসিক বিবর্তনের কোনো এক স্তরে এসবের উদ্ভব হয়েছে। এর ফলে ‘যৌথ’ ও ‘ব্যক্তির’ মধ্যে যে বৈপরীত্য ও দ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছে, শ্রেণী বিভাজন ও ব্যক্তিগত মালিকানা ব্যবস্থাকে সমাজ থেকে অপসারণ করতে পারলে সেই বৈপরীত্য ও দ্বন্দ্ব নিরসনের ভিত্তি রচিত হবে। যুক্তিযুক্তভাবেই একথা তাই বলা যায় যে,‘সমাজের’ সে ধরনের মৌলিক রূপান্তর ঘটাতে পারলে ঘুষ-দুর্নীতিসহ অনেক ব্যাধি থেকেই মানব সভ্যতাকে মুক্ত করা যাবে। ঘুষ-দুর্নীতি নিয়ে অনন্তকাল আমাদেরকে সহবাস করতে হবে, ঘুষ-দুর্নীতি হলো সমাজের একটি অন্তর্নিহিত অনুষঙ্গ, ঘুষ-দুর্নীতি কখনই দূর করা যাবে না— তাকে শুধু সহনীয় পর্যায়ে রাখার চেষ্টা করা যেতে পারে, —এসব কথা তাই মেনে নেয়া যায় না।
বাস্তব জীবনে আমরা হরদম নানা ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হই। এসব সমস্যা দু’ধরনের হতে পারে। কতগুলো সমস্যার উদ্ভব হয় ‘ব্যবস্থা’ ঠিকমতো কাজ না করার কারণে। ব্যবস্থা অকেজো হয়ে পড়া বা তার পরিচালনায় অদক্ষতা-ত্রুটির জন্য যেহেতু এসব সমস্যার উদ্ভব, তাই ব্যবস্থাকে আবার সচল করে তাকে দক্ষভাবে পরিচালনা করতে পারলেই এসব সমস্যার সমাধান করা সম্ভব। কিন্তু অন্য আরেক ধরনের কিছু সমস্যা আছে যেগুলো ‘ব্যবস্থাগত’ (systemic) সমস্যা। এসব সমস্যা বা রোগের উদ্ভব হয় ‘ব্যবস্থার’ মৌলিক চরিত্র ও বৈশিষ্ট্যের উত্স থেকে। ‘ব্যবস্থার’ উন্নত পরিচালনার সাহায্যে এসব রোগ দূর করা যায় না। এসব রোগ দূর করার জন্য ‘ব্যবস্থাকে’ মৌলিকভাবে রূপান্তর করা অপরিহার্য হয়ে ওঠে।
ঘুষ-দুর্নীতির ব্যাধি অতি পুরোনো। তবে আমাদের দেশে বৃটিশ শাসনামলে তাতে নতুন মাত্রিকতা যুক্ত হয়েছিল। বৃটিশ ঔপনিবেশিক শাসকরা ঘুষ-দুর্নীতিকে রাষ্ট্র ও সরকার পরিচালনার ক্ষেত্রে একটি উপাদান ও পন্থা রূপে ব্যবহার করতে শুরু করে এবং শাসনযন্ত্রের তৃণমূল থেকে সর্বোচ্চ স্তর পর্যন্ত তার প্রসার ঘটায়। এভাবে ঘুষ-দুর্নীতি রাষ্ট্রীয় কর্মপরিচালনার একটি বৈশিষ্ট্য ও রাষ্ট্রব্যবস্থার একটি অনুষঙ্গে পরিণত হয়। অবশ্য ঘুষ-দুর্নীতির কর্মকাণ্ড যেন লাগামহীন পর্যায়ে গিয়ে চরম নৈরাজ্যমূলক না হয়ে উঠতে পারে সেজন্য সেই বৃটিশরাই আবার ঘুষ-দুর্নীতির বিরুদ্ধে আইন, বিচার ও শাস্তির ব্যবস্থাও প্রবর্তন করেছিল। বিত্তবানরা যেন আইনের ফাঁক দিয়ে বেরিয়ে আসতে পারে তার ব্যবস্থাও অবশ্য তারা রেখেছিল। বৃটিশ শাসকদের প্রবর্তিত ঘুষ-দুর্নীতির সেই ধারা আমাদের দেশে অব্যাহত থেকেছে। বর্তমানে বাজার-অর্থনীতির অভিঘাতে সমাজে ঘুষ-দুর্নীতির মাত্রা ও প্রকারের বিস্তৃতি তাকে গুণগত নতুন মাত্রিকতায় নিয়ে গেছে।
আমাদের দেশে বর্তমানে ঘুষ-দুর্নীতি যে ভয়াবহ প্রসার ও মাত্রা অর্জন করেছে তা থেকে দেশকে মুক্ত করতে হলে এর পেছনের আসল সামাজিক-অর্থনৈতিক উেসর কথা বুঝতে পারা একান্ত আবশ্যক। ঘুষ-দুর্নীতির বর্তমান ভয়াবহতার ব্যাপারটি প্রচলিত আর্থ-সামাজিক ব্যবস্থার একটি অভিপ্রকাশ মাত্র। এ অবস্থা থেকে মুক্ত হতে হলে তাহলে কী করতে হবে? শুধু কি অভিপ্রকাশগুলো (অর্থাত্ শুধু ঘুষ-দুর্নীতির বিচ্ছিন্ন ঘটনাবলি) দূর করলেই চলবে? কিংবা শুধু কি অভিপ্রকাশের উত্স (অর্থাত্ শুধু প্রচলিত আর্থ-সামাজিক ব্যবস্থাকে) উচ্ছেদ করার কাজে সীমাবদ্ধ থাকলেই চলবে? আসলে এই দুটোর কোনো একটি ক্ষেত্রে আলাদাভাবে সফলতা আনা যাবে না। দুটো কাজকে একই সঙ্গে এগিয়ে নিতে হবে। অভিপ্রকাশের ঘটনাবলি রুখে দাঁড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে তার আর্থ-সামাজিক উত্সকেও আঘাত করতে হবে। এবং সেই উত্স উত্পাটন করে এমন একটি বিকল্প আর্থ-সামাজিক ভিত্তি সৃষ্টি করতে হবে, যা সহজাতভাবে ঘুষ-দুর্নীতির লালনকারী নয়।
আমাদের দেশ সাম্রাজ্যবাদ ও বিশ্বব্যাংক-আইএমএফ প্রভৃতি সংস্থা দ্বারা বহুলাংশে নিয়ন্ত্রিত। তারা অর্থনৈতিক-সামাজিক যে দর্শন ও চলার পথ নির্দেশ করে দিয়েছে সেটাই অনেকাংশে জন্ম দিয়েছে লুটেরা ও পরগাছাপরায়ণ লুটপাটের অর্থনীতি। এই নীতি-দর্শন অনুযায়ী দেশের অগ্রগতির (?) জন্য ব্যক্তিগত মালিকানায় পুঁজি সঞ্চয় জরুরি কাজ। ব্যক্তিমালিকানায় পুঁজি সঞ্চয় হবে কীভাবে? স্বাভাবিক ব্যবসা-বাণিজ্য দিয়ে (মুনাফার হার যদি ২৫ শতাংশও ধরি) একজন লাখপতিকে কোটিপতি হতে ২০-২৫ বছর সময় লাগবে, অথচ সে চায় যে, তাকে কোটিপতি হতে হবে দু’এক বছরেই। সেক্ষেত্রে পথ একটাই। অস্বাভাবিক মুনাফা করতে হবে। আইনের পথের বাইরে অর্থ উপার্জন নিশ্চিত করতে হবে। তা না হলে ব্যক্তিগত মালিকানায় পুঁজি সঞ্চয় হবে না, রাতারাতি কোটিপতি হওয়া যাবে না। এভাবেই এদেশে গড়ে উঠেছে একশ্রেণীর লুটেরা বিত্তবান। তারাই এখন হয়ে উঠেছে রাষ্ট্রক্ষমতার প্রকৃত নিয়ন্ত্রক। তাদের লুটপাট নিরাপদ রাখার জন্যই তারা আমলাতন্ত্র, একশ্রেণীর রাজনীতিবিদ, মাস্তানবাহিনী, প্রভৃতিকে লুটপাটের ভাগীদার বানিয়ে দেশকে (সরকার, বিরোধী দল, রাজনীতি, প্রশাসন, অর্থনীতি সবকিছু) নিয়ন্ত্রণ করছে। দেশ আজ এক অশুভ ‘মাফিয়া সিন্ডিকেটে’র হাতে বন্দী। সমাজ দর্শন ও সমাজ কাঠামোতে এই লুটপাটের ব্যবস্থা ও ধারা অব্যাহত থাকার কারণেই ‘সরকার আসে যায়, কিন্তু ঘুষ-দুর্নীতি চলছে তো চলছেই’।
আদি পুঁজি সঞ্চয় দ্বারা উত্পাদনমুখী উদ্যোগে উত্তরণ এবং ন্যূনতম অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠাও এদেশে সম্ভব হচ্ছে না একই কারণে। ফটকাবাজি-চোরাচালান-মজুদদারি প্রভৃতি ক্ষেত্রে মুনাফা হয় বিপুল এবং রাতারাতি। কিন্তু শিল্পে বিনিয়োগে খাটুনি বেশি, মুনাফা জমা হওয়ার প্রক্রিয়াও দীর্ঘমেয়াদি। তাছাড়া ‘অবাধ বাণিজ্য’ নীতি দেশকে বিদেশি পণ্যের নিয়ন্ত্রণহীন বাজারে পরিণত করেছে। ফলে অর্থনীতির নিয়মানুসারেই দেশের নবীন শিল্প-উদ্যোগ ‘অবাধ প্রতিযোগিতা’র গলাকাটা প্রক্রিয়ায় উন্নত বিদেশি কোম্পানির কাছে পরাজিত হয়ে ধ্বংসপ্রাপ্ত হচ্ছে। এসব কারণে শিল্পপুঁজির তুলনায় ব্যবসায়ী পুঁজি (যা মূলত বিদেশি কোম্পানির স্থানীয় এজেন্টের কাজ করে চলেছে) তার আধিপত্য বজায় রেখে অর্থনীতির উত্পাদনবিমুখ, পরগাছাপরায়ণ ও লুটেরা চরিত্র জিইয়ে রাখছে। এগুলোই হলো এ দেশের ঘুষ-দুর্নীতির ভয়াবহতার উত্সসূত্র।
এসব কথা থেকে স্পষ্টই বোঝা যায়, দেশের উন্নয়নের পথে প্রধান বাধা হলো প্রচলিত ‘সাম্রাজ্যবাদ-বিশ্বব্যাংক-নির্ভর লুটেরা ধনবাদী’ আর্থ-সামাজিক ব্যবস্থা। উন্নয়নের বিকল্প ধারা গ্রহণ করতে হলে প্রচলিত ব্যবস্থাকে ভেঙে নতুন নীতি-দর্শন গ্রহণ করতে হবে। ‘ঘুষ-দুর্নীতি উন্নয়নবিরোধী ধারার জন্মদাতা’—এই বক্তব্য যেমন সত্য, তার চেয়ে বড় সত্য হলো, ‘উন্নয়নবিরোধী প্রচলিত আর্থ-সামাজিক ব্যবস্থা হলো ঘুষ-দুর্নীতির উত্স ও জন্মদাতা’। তাহলে এখন মূল কথায় ফিরে এসে বলা যায়, বর্তমানে যে সমাজ-দর্শন ও অর্থনৈতিক-সামাজিক-রাজনৈতিক ধারায় দেশ চলছে, ঘুষ-দুর্নীতির ভয়াবহতার অবসানের জন্য সেই ব্যবস্থার আমূল উচ্ছেদ একান্ত অপরিহার্য। এক্ষেত্রে উপযুক্ত আইন-কানুন প্রণয়ন, আরও কঠোরভাবে ঘুষ-দুর্নীতি মোকাবিলা করা ইত্যাদি প্রয়োজন। কিন্তু সবচেয়ে বড় ভাবে যেটা প্রয়োজন তা হলো ঘুষ-দুর্নীতির লালনকারী বিদ্যমান সমাজব্যবস্থার পরিবর্তন। এক্ষেত্রে ঘুষ-দুর্নীতির জন্য কে বেশি দায়ী, তা নিয়ে বিতর্ক করাটা একটি গৌণ বিষয়। কে দুর্নীতি বেশি করেছে আর কে কিছুটা কম করেছে এ নিয়ে বিতর্ককে প্রধান করে তোলাটা ঘুষ-দুর্নীতির আসল উত্সবিরোধী সংগ্রামকে পথভ্রান্ত করার একটি কৌশলী প্রয়াস মাত্র। দুর্নীতি থেকে সমাজকে মুক্ত করতে হলে আসল জায়গায় আঘাত করতে হবে। যে ‘মাফিয়া সিন্ডিকেট’ সর্বগ্রাসী সর্বব্যাপী এক মহাশক্তিরূপে সব সরকারের আমলেই ক্ষমতার প্রকৃত নিয়ন্ত্রক হয়ে বসে আছে, তার বিরুদ্ধে জনগণের সংগ্রামের নবধারা বেগবান করতে হবে। এই অপশক্তিকে নির্মূল করতে হবে। তাহলেই পরিত্রাণ সম্ভব।
এ লড়াই খুবই কঠিন। দেশের মেহনতি শ্রমজীবী জনগণকেই এই লড়াইয়ের অগ্রভাগে এসে দাঁড়াতে হবে। সমাজের অন্যসব বিবেকবান সত্ মানুষকে সেইসব ধারার সংগ্রামে সমবেত করতে হবে। সেই সুস্পষ্ট লক্ষ্যে গড়ে তুলতে হবে জাতীয় জাগরণ। নতুন সমাজ গড়ার অঙ্গীকারের ভিত্তিতে সেটিই হয়ে উঠবে এক জাতীয় নব-উত্থান।
No comments:
Post a Comment